সালাতের শক্তিশালী প্রার্থনা

সালাত আদায়ের সিস্টেম নিয়ে নানা মতভেদ। তাই এ বিষয়ে কুরয়ান, হাদিস, ফিকাহ, তাসাউফ ইত্যাদি বিষয়গুলো অধ্যয়ন করে বুঝলাম (আরকান-আহকাম ঠিক রেখে) সালাতে সুরা ফাতিহা ভালোভাবে বুঝে আবেদনময়ী করে বলতে (পড়তে) পারাই সালাত আদায়কারীর জন্য যথেষ্ট। এই সুরা ফাতিহা মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে তাঁর বান্দার এত শক্তিশালী একটি দরখাস্ত এটি শুধু বাকি নামাজ নয় গোটা জীবনকে সঠিক পথে চালানোর জন্য যথেষ্ট। সালাতে বুকে হাত বাঁধা যদি জরুরিই হয় তাহলে সুরা ফাতিহার প্রার্থনার শক্তিই তার হাত বুকে নিয়ে যাবে। আমাদের স্কুলের বা অফিসের দরখাস্তের সাথে সূরা ফাতিহাকে একটু তুলনা করে বুঝার চেষ্টা করি। শুরুতেই বলি আউজুবিল্লাহি মিনাশশাইতনির রাযীম অর্থাৎ বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। এই প্রার্থনার মাধ্যমে মনকে প্রস্তুত করতে হয়। স্কুলের বা অফিসের দরখাস্তে এরপর থাকে বরাবর, ———- আর এখানে আমরা বলি বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম অর্থাৎ দয়ালু দয়াময় আল্লাহর নামে শুরু করছি। দরখাস্তটি গৃহীত হওয়ার জন্য যার বরাবরে দরখাস্ত করা হয় তার প্রশংসা বা গুনকীর্তন কার্যকরি ভূমিকা রাখে। আমরা বলি আলহামদুলিল্লাহি রব্বিল আলামীন অর্থাৎ সকল প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা বিশ্বপ্রতিপালক আল্লাহর জন্য। আর রাহমানীর রাহীম অর্থাৎ দয়ালু দয়াময়। মালিকি ইয়াওমিদ্দীন অর্থাৎ আমাদের কর্মের হিসাব যে দিন দিতে হবে সেই দিনের সম্রাট। স্কুলের বা অফিসের দরখাস্তে আমরা লিখি আপনার বিদ্যালয়ের অনুগত ছাত্র বা আপনার অফিসের অনুগত কর্মচারী। এখানে বলি ইয়্যাকা না’বুদু অ ইয়্যাকা নাস্তাইন অর্থাৎ আমরা আপনারই দাসত্ব করি আপনারই সাহায্য চাই। স্কুলের বা অফিসের দরখাস্তে এর পর আমাদের মূল চাহিদাটি বলি। আর এখানে আমরা বলি —- অর্থাৎ আমাদের সরল সঠিক পথ দেখাও, যে পথে তোমার প্রিয়জন গেছে চলি। সেইসব লোকের পথে নয় যারা তোমার অভিশাপগ্রস্ত এবং (তাদের পথেও) নয় যারা পথভ্রষ্ট। স্কুলের বা অফিসের দরখাস্তে সব শেষে আবেদনটি গ্রহণ করতে বলি। এখানে বলি আমীন অর্থাৎ হে আল্লাহ কবুল করুন। মহান আল্লাহ বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিব, যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হবে। (সুরা মু’মিন আয়াত-৬০) তাই সুরা ফাতিহায় এভাবে আল্লাহকে ডাকার পরও তার সালাত ও জীবন ভুল পথে চালিত হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নাই। তবে শর্ত হচ্ছে সুরা ফাতিহার প্রতিটি বাক্য মন থেকে বুঝে ভয় ও আশার সংমিশ্রনে আবেগময় ও আবেদন্ময়ীভাবে বলতে হবে। কারণ হাদিসে আছে- রাসুল (সা.) বলেছেন, তোমরা কবুল হওয়ার পূর্ণ আস্থা নিয়ে আল্লাহর কাছে দোয়া কোরো। জেনে রেখো, আল্লাহ অমনোযোগী ও অসাড় মনের দোয়া কবুল করেন না। (তিরমিজি, হাদিস : ৩৪৭৯) আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে আমল করার তাওফিক দিক। আমীন।।
Added This into Lifestyle (28/07/2021) 124 Views
যে কোন সমস্যায় প্রশ্ন করে সমাধান নিন এবং অন্যের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে প্রতিদিন ১০০ টাকা উপার্জন করুন (বিস্তারিত)

Article Categories

Read More Load More And Share Your Knowledge
© 2022 LoadX.Xyz