HomeLifestyleস্ত্রীর উপর স্বামীর শ্রেষ্ঠত্ব

স্ত্রীর উপর স্বামীর শ্রেষ্ঠত্ব

মহান আল্লাহ বলেন, পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যের বৈশিষ্ট্য দান করেছেন এবং এ জন্য যে, তারা তাদের অর্থ ব্যয় করে।(সূরা নিসা-৩৪) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ ব্যতীত যদি অন্য কাউকে আমি সিজদা করার নির্দেশ দিতাম, তাহলে স্ত্রীকে তার স্বামীকে সিজদা করার অনুমতি দিতাম। [তিরমিযীঃ ১১৫৯] সুরা নিসার ৩৪ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় তাফসিরে তাবারি প্রণেতা বলেন, পূর্ববর্তী আয়াতসমূহের বক্তব্য অনুসারে পুরুষ ও নারীদের অধিকার পরস্পর সামঞ্জস্যপূর্ণ, বরং পুরুষের তুলনায় নারীদের দুর্বলতার কারণে তাদের অধিকার আদায়ের ব্যাপারে তুলনামূলকভাবে বেশী গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কারণ নারীরা বল প্রয়োগের মাধ্যমে নিজেদের অধিকার আদায় করে নিতে পারে না। কিন্তু তথাপি এই সমতার অর্থ এই নয় যে, পুরুষ ও নারীর মধ্যে মর্যাদার কোন পার্থক্য থাকবে না; বরং দুটি ন্যায়সঙ্গত ও তাৎপর্যের প্রেক্ষিতেই পুরুষদেরকে নারীদের পরিচালক নিযুক্ত করা হয়েছে। প্রথমতঃ পুরুষকে তার জ্ঞানৈশ্বর্য ও পরিপূর্ণ কর্মক্ষমতার কারণে নারী জাতির উপর মর্যাদা দেয়া হয়েছে, যা অর্জন করা নারী জাতির পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। দৈবাৎ কিংবা ব্যক্তিবিশেষের কথা স্বতন্ত্র। দ্বিতীয়তঃ নারীর যাবতীয় প্রয়োজনের নিশ্চয়তা পুরুষরা নিজের উপার্জন কিংবা স্বীয় সম্পদের দ্বারা বিধান করে থাকে। মোটকথা: ইসলাম পুরুষকে নারীর নেতা বানিয়েছে। নারীর উপর কর্তব্য হচ্ছে, আল্লাহ তাকে তার স্বামীর যা আনুগত্য করার নির্দেশ দিয়েছেন তার আনুগত্য করা। আর সে আনুগত্য হচ্ছে, সে স্বামীর পরিবারের প্রতি দয়াবান থাকবে, স্বামীর সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে। স্বামীর পক্ষ থেকে খরচ ও কষ্ট করার কারণে আল্লাহ স্বামীকে স্ত্রীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব প্রদান করেছেন। [তাবারী] একজন পুরুষের সাথে একজন নারীর বিয়ের মাধ্যমেই এই পরিবার গঠিত হয় এবং সন্তান সন্তুতি জন্মের ফলে পরিবারের আয়তন বৃদ্ধি পায়। স্বাভাবিকভাবেই পরিবার নামের এই ছোট্ট সমাজের বিভিন্ন দিক পরিচালনার জন্যে একজন পরিচালক থাকা দরকার। তা-না হলে পরিবারে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য দেখা দেবে। পবিত্র কোরআন নারী ও পুরুষ তথা স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে স্বামীকে দু’টি কারণে পরিবারের পরিচালক বলে উল্লেখ করেছে। প্রথমত : পুরুষরা মহিলাদের চেয়ে শারীরিক দিক থেকে বেশী শক্তিশালী। আর তাই পুরুষদের আয় উপার্জন ও পরিশ্রমের ক্ষমতা বেশী। আর দ্বিতীয় যুক্তি হলো, জীবন যাপনের সমস্ত খরচ যেমন- খাদ্য, বাসস্থান, পোশাক ও জীবন যাপনের অন্যান্য সব খরচ যোগানোর দায়িত্ব স্বামীর। অন্যদিকে ইসলামের দৃষ্টিতে নিজের ও সংসারের কোন ধরনের খরচ যোগানোর সামান্য বাধ্যবাধকতাও স্ত্রীর নেই এমনকি তাঁর নিজস্ব আয় উপার্জন থাকলেও তা খরচ করা তার জন্য জরুরি নয়। অন্যকথায়, ইসলাম পরিবারের কল্যাণ ও সুখ সমৃদ্ধি কঠিন দায়িত্ব পুরুষের ওপর অর্পন করেছে। আর এই দায়িত্ব পালনের জন্য পরিবার বিষয়ের সমস্ত ক্ষমতা পুরুষের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। পুরুষরা এ ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল হলেও স্ত্রীদের ওপর বলদর্পী বা কতৃত্বকামী হবার কোন অধিকার তাদের নেই। নিজের কোন কাজে স্ত্রীকে দাসী হিসেবে ব্যবহার করা বা স্ত্রীর ওপর জুলুম করার কোন অধিকার পুরুষের নেই৷ পুরুষ বা স্বামী যখন কোন অন্যায় করে বা স্ত্রীর ভরণ পোষণের খরচ দিতে অস্বীকার করে কিংবা স্ত্রী ও সন্তান সন্ততির জীবন দূর্বিষহ করে তোলে তাহলে স্ত্রীর অনুরোধে বিচারক বা কাজী এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করতে পারে। এমনকি প্রয়োজন হলে পুরুষ বা স্বামীকে তার অঙ্গীকার পূরণে বাধ্য করতে পারে। ইসলামী জীবনব্যবস্থায় পরকালীন জবাবদিহীতাই মূখ্য, পার্থিব শ্রেষ্ঠত্বের বিষয়টি গৌণ। এ প্রসঙ্গে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সাবধান! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। অতএব, ইমাম কিংবা দলনেতা যে বিষয়ের দায়িত্বশীল তিনি তার অধীনদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবেন। যে তার পরিবারের সদস্যদের দায়িত্বশীল, সে তার পরিবারের সদস্যদের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবেন। নারী দায়িত্বশীল তার স্বামীর পরিবারের সদস্যদের ও সন্তান-সন্ততির বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবেন। দাস তার মনিবের সম্পদের দায়িত্বশীল এবং সে এই সম্পদের দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন। কাজেই সতর্ক হও! তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল এবং তোমাদের প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে (পরকালে আল্লাহর নিকট) জিজ্ঞাসিত হবে। ’ –(সহিহ বোখারি) স্বামীর আনুগত্য করা দুর্বলতার লক্ষণ নয় বরং পরিবারের প্রতি সম্মান ও পরিবার টিকিয়ে রাখার জন্যই তা জরুরি। শুধু নামায রোজাই সত্‍ কাজ নয় পরিবারের অধিকার রক্ষা এবং পারিবারিক দায়িত্ব পালনও সত্কাজের অন্তর্ভূক্ত। এছাড়া স্ত্রীর ভুল বা অপরাধের ব্যাপারে অজুহাত প্রবণ বা প্রতিহিংসা পরায়ণ হওয়া উচিত নয়। তাঁর কল্যাণ ও সংশোধনের ইচ্ছাকেই এ ক্ষেত্রে আচরণের মাপকাঠি করতে হবে। পুরুষদের এটা মনে রাখতে হবে, পরিবার পরিচালনার দায়িত্বটা তাদের ওপর অর্পণ করা হলেও আল্লাহ তাদের আচরণ ও তৎপরতা লক্ষ্য করছেন এবং স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে আচরণের ব্যাপারে কিয়ামতের দিন জবাবদিহি করতে হবে। আল্লাহ আমাদেরকে তার সকল হুকুম মান্য করার তাওফিক দিক। আমীন।।
2 months ago (28/07/2021) 18 Views

Posted by (Author)

Need Login For Read And Write Comments

Related Shared

Read More Load More And Share Your Knowledge
© 2021 LoadX.Xyz